
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে সম্পদ বিবরণী ও নগদ অর্থের তথ্য গোপনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার মিঠু এবং দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাবলুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম তাদের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করেন।
এই দুই প্রার্থী রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র যথাযথ প্রক্রিয়ায় কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়নি,এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার মিঠু তার মনোনয়নপত্র ও হলফনামায় নিজ মালিকানাধীন একটি ইটভাটা ‘লাভিদ লায়েন্স ব্রিকস’-এর তথ্য গোপন করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, ইটভাটাটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বিপরীতে কোনো আয়কর বা ভ্যাট পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি ইটভাটা পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নবায়নও করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। এসব তথ্য সম্পদ বিবরণী ও আয়কর সংক্রান্ত ঘোষণায় উল্লেখ না করলেও তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করায় যাচাই-বাছাইয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাবলুর ক্ষেত্রেও গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে তার হলফনামায় নগদ অর্থ ২৭ লাখ টাকা উল্লেখ করেছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করে তিনি নগদ অর্থের পরিমাণ ১ কোটি টাকা দেখান। অভিযোগ উঠেছে, সাত বছরের ব্যবধানে নগদ অর্থ ৭৩ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেলেও এর কোনো বৈধ আয়ের উৎস তিনি মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করেননি। এছাড়া এই অতিরিক্ত অর্থের ওপর কোনো আয়কর বা ভ্যাট পরিশোধের তথ্যও উপস্থাপন করা হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
“কোনো প্রার্থী যদি তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকে, সেটি প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়। আমাদের পক্ষে যতটুকু যাচাই করা সম্ভব, ততটুকু যাচাই করেই প্রাথমিকভাবে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অভিযোগ থাকলে সেটি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রমাণিত হলে যে কোনো সময় মনোনয়ন বাতিলের সুযোগ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, শিবচর উপজেলা নিয়ে গঠিত মাদারীপুর-১ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ১৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৮৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৪৪ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন। পদ্মা নদী ও আড়িয়াল খাঁ নদীবেষ্টিত এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১০২টি।