
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভেদরগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ঈদুল আজহার সময় ভেদরগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ মাঠে গরুর হাটের ইজারা নিয়ে পৌরসভা যুবদলের সভাপতি এসকান্দার ছৈয়াল এবং পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিন্টু বেপারীর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় পৌর এলাকার হানিফ মিয়ার ছেলে ইয়াছিন (১৮) নিহত হন।
পরে নিহত ইয়াছিনের মা বাদী হয়ে পৌর ছাত্রদল নেতা রাশেদ ছৈয়াল ও মিঠু আকনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভেদরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মিঠু আকন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকলেও কিছুদিন আগে জামিনে মুক্তি পান রাশেদ ছৈয়াল।
রবিবার দুপুরে রাশেদ ছৈয়ালের সঙ্গে আটক মিঠু আকনের বড় ভাই টিটু আকনের জামিনের বিষয় নিয়ে আলোচনা চলাকালে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে টিটু আকনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে হুমায়ুন আকনের ভাই টিটু আকনসহ দুইজন আহত হন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। গুরুতর আহত টিটু আকনকে উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ সময় সেনাবাহিনী এসকান্দার ছৈয়াল ও তার চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম ছৈয়ালকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে আহত টিটু আকনের বড় ভাই দেলোয়ার আকন বাদী হয়ে এসকান্দার ছৈয়ালকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন আকন অভিযোগ করে বলেন, পূর্বের হত্যা মামলায় তার ভাই মিঠু আকনকে ফাঁসানো হয়েছে এবং জামিনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করা হয়নি। জামিনের বিষয়ে জানতে চাইলে তার ভাই টিটু আকনের ওপর হামলা চালানো হয়।
তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এবং তাদের কাছে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, আবুল বাসার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ভেদরগঞ্জ থানা বলেন, পূর্বের একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। আটক দু’জনকে আদালতে সোপর্দের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।