
শরীয়তপুরের জাজিরায় চার বছর ধরে চিকিৎসাধীন এক অসহায় মানসিক রোগীকে ‘মোটরসাইকেল ছিনতাইকারী’র তকমা দিয়ে বর্বর গণপিটুনি দেওয়ার পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার রূপ বাবুরহাট এলাকায় মফ জাস্টিসের নামে এই নৃশংসতা চালানো হয়। গণপিটুনির শিকার ইমরান (২৩) নামের ওই যুবককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
একজন প্রমাণিত মানসিক রোগীর ওপর সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে এমন নির্মম নির্যাতনে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যুবক ইমরান গত চার বছর ধরে তীব্র মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। অর্থাভাব ও চরম সংকটের মধ্যেও অসহায় পরিবারটি তাঁর চিকিৎসার কমতি করেনি। অতি সম্প্রতি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে টানা দুই মাস ভর্তি রেখে মানসিক চিকিৎসা করানোর পর, কিছুটা সুস্থ অবস্থায় মাত্র এক মাস আগে তাঁকে বাড়িতে আনা হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গতকাল ইমরান তাঁর মানসিক অসংলগ্নতার কারণে হঠাৎ বাড়ি থেকে বের হয়ে রূপ বাবুরহাট এলাকায় চলে যান। সেখানে তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখে মূল ঘটনা না বুঝেই স্থানীয় কিছু উগ্র ও অতিউৎসুক মানুষ মুহূর্তের মধ্যে হুজুগ তৈরি করে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইমরানের ওপর ‘মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের’ অপবাদ চাপিয়ে দিয়ে জনমনে উত্তেজনা ছড়ানো হয়। এরপর আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ওই অসুস্থ যুবকের ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক নির্যাতন। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তাঁকে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
কান্নায় ভেঙে পড়ে ইমরানের অসহায় পরিবার জানায়, আমার ছেলেটা দীর্ঘ চার বছর ধরে মানসিক রোগী। ঢাকা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের প্রেসক্রিপশন, ভর্তির কাগজসহ সব প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। যে ছেলে নিজের ভালো-মন্দ বোঝে না, সে কীভাবে ছিনতাই করবে? সুস্থ মানুষগুলো কীভাবে একটা পাগল ছেলেকে এভাবে পশুর মতো পিটিয়ে রক্তাক্ত করতে পারলো? আমরা এই বর্বরতার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
এ বিষয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহ আলম জানায়, যুবকটিকে থানায় নিয়ে আসার পর তাঁর তীব্র মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি আঁচ করা গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার সমস্ত নথিপত্র পেশ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার সাথে খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ও মানবিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।