
ঈদুল আজহার ত্যাগের মহিমাকে সমুন্নত রেখে কক্সবাজারে এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন স্থানীয় একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কোরবানির পশু, উপহার হিসেবে গ্রহণ না করে, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে কোরবানি দিয়ে ফোর্সের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তিনি। ওসির এমন সততা এবং ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পুলিশ বাহিনীসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে প্রশংসিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলের দেওয়া উপহার ফিরিয়ে দেন ওই থানার ওসি। পরিবর্তে তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিস্বার্থে বাইরে এসে ফোর্সের ১০০ জন পুলিশ সদস্যের ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার উদ্যোগ নেন। স্থানীয় বাজার থেকে কেনা ৫ মণ ওজনের একটি কোরবানির গরুতে তিনি নিজস্ব তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি ‘ভাগা’ (অংশ) নেন।
থানার পুলিশ সদস্যরা জানান, সাধারণত বড় বড় উৎসব বা ঈদে নানা মহলের উপহারের ওপর নির্ভরতার একটি নেতিবাচক চর্চা দেখা যায়। কিন্তু ওসির এই কঠোর ও সৎ অবস্থানের কারণে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন আমেজ তৈরি হয়েছে। ওসির দেওয়া ৫০ হাজার টাকার দুই ভাগা এবং ফোর্সের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পুরো ১০০ জন ফোর্সের জন্য এই কোরবানির আয়োজন সম্পন্ন হয়। এতে থানার কনস্টেবল থেকে শুরু করে কর্মকর্তা,সবাই অত্যন্ত আনন্দিত ও সন্তুষ্ট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানার এক পুলিশ সদস্য বলেন, স্যার আমাদের শিখিয়েছেন কোরবানি মানে ত্যাগ ও সততা। কারো দেওয়া গরু না নিয়ে নিজেদের টাকায় ভাগা দিয়ে যে আনন্দ আমরা পাচ্ছি, তা সত্যিই অন্যরকম। পুরো ফোর্সের সবাই এই উদ্যোগে অত্যন্ত খুশি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে আমাদের দায়িত্ব জনগণের আস্থা অর্জন করা। ঈদ সবার জন্য আনন্দের। কারো উপহার বা অনুগ্রহ নিয়ে নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ফোর্সের সবাইকে সাথে নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্যেই প্রকৃত তৃপ্তি। আমরা চেয়েছি একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর দৃষ্টান্ত তৈরি করতে।
পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে ওসির এমন মানবিক ও সৎ উদ্যোগ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি সমাজ গঠনে একটি বড় বার্তা দেবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
>