বরিশালের উজিরপুর উপজেলা উপজেলার হারতা ইউনিয়নে দেনা,পাওনা কেন্দ্র করে বড় বোনের পরিবর্তে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছোট বোনকে বরের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার মাস আগে হারতা ইউনিয়নের এক দরিদ্র পরিবারের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে সৈকত নামের এক যুবকের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ওই তরুণী স্বামীর বাড়িতে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
বিরোধ মীমাংসার জন্য সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বরের পক্ষ দাবি করে, বিয়েতে তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং সেই টাকা কনের পরিবারকে ফেরত দিতে হবে। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মেয়ের পরিবার টাকা পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করে।
অভিযোগ উঠেছে, এ সময় বরের বাবা টাকার পরিবর্তে বড় মেয়ের বদলে তার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছোট বোনকে তাদের বাড়িতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। উপস্থিত কয়েকজন সালিসদারও এতে সম্মতি দেন। পরে সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছোট মেয়েটিকে সৈকতের বাড়িতে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এক সালিসদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি এই অমানবিক সিদ্ধান্তে রাজি না হয়ে বৈঠক থেকে বের হয়ে এসেছি। একজন মানুষকে এভাবে লেনদেনের বস্তু বানানো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পরিবারের দাবি, তারা কেবল বিয়ের খরচ ফেরত অথবা পারিবারিক সমাধানের একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক চাপ ও দারিদ্র্যের কারণে অসহায় পরিবারটি ছোট মেয়েকে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, এ ঘটনা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, বরং বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধকে উৎসাহিত করছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সালিস ব্যবস্থার অপব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।