


শরীয়তপুরের ডামুড্যায় এক প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় স্থানীয় এক সাংবাদিককে আসামি করায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত সাংবাদিকের দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভিডিও ধারণ করছিলেন মাত্র।
মামলার চার নম্বর আসামি করা হয়েছে স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি ও শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য মিরাজ শিকদারকে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর হামলার ঘটনায় গত সোমবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মিরাজ শিকদারের দাবি, ঘটনার সময় তিনি সাংবাদিক হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং ভিডিও ধারণ করছিলেন। হামলায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার ভিডিও ফুটেজে মিরাজ শিকদারকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি।
শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কোনো সাংবাদিককে হয়রানিমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হলে তা উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তবে প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের দাবি, মিরাজ শিকদার হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ কারণেই তাকে মামলার আসামি করা হয়েছে।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আদালত থেকে মামলার নথি পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।