শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা পরিষদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বনভ্রমণে যাওয়ায় সরকারি সেবা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিভিন্ন প্রয়োজনে উপজেলা পরিষদে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রোববার (৭ জুন) উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুপস্থিত। সেবা নিতে আসা অনেককে অপেক্ষা করতে কিংবা ফিরে যেতে দেখা যায়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খানসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সম্প্রতি বনভ্রমণের উদ্দেশ্যে সিলেটে যান। তারা জাফলং, বিছানাকান্দি ও সাদা পাথরসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোবিন্দ চক্রবর্তী বলেন, “ইউএনও স্যারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বনভ্রমণে গিয়েছেন। অফিসে প্রয়োজনীয় কিছু স্টাফ দায়িত্ব পালন করছেন।”
তবে একাধিক সেবা প্রত্যাশী অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের না পেয়ে তারা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম ব্যাহত করে একযোগে কর্মকর্তাদের বনভ্রমণে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা জনসেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।