
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬কে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একযোগে অভিযান চালিয়ে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নে প্রকাশ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করায় তাকে আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর ২৭ ধারা অনুযায়ী ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
গোসাইরহাট উপজেলায় ইজিবাইকে অবৈধ পোস্টার ও প্রচারণা সামগ্রী বহনের দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কঠোরভাবে আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর, চরচান্দা, পুটিয়া ও নারায়ণপুর এলাকায় বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এসব এলাকায় কোনো অনিয়মের সাহস পায়নি কেউ।
জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়ন পরিদর্শন করে প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কঠোর অভিযান চালানো হয়। ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নে অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় একটি ভেকু জব্দ করা হয়। ঘটনায় জড়িত চালককে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভেদরগঞ্জে লাইসেন্স ছাড়া পেট্রোলিয়াম বিক্রির দায়ে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জাজিরার কাজীরহাটে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের দায়ে একাধিক যানবাহনের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।
গোসাইরহাট উপজেলায় খোলাবাজারে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবসায়ীদের শেষবারের মতো সতর্ক করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, কালো টাকা, পেশিশক্তি বা অবৈধ প্রচারণা বরদাশত করা হবে না। আইন ভাঙলে দল মত নির্বিশেষে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এমন অভিযান নিয়মিত চালু রাখা জরুরি।