
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র, দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ফুয়াদ সরকার (৫৫) নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে ভেদরগঞ্জ উপজেলার কার্তিকপুর বাজারসংলগ্ন একটি মাছের খামার এলাকা থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত ফুয়াদ সরকার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চর হোগলা এলাকার মৃত ফয়েজুল্লাহ সরকারের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ও শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হক শামিমের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে ফুয়াদ সরকার এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ফুয়াদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। কেউ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে তার সহযোগীদের মাধ্যমে তুলে এনে শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে, তবে এসব অভিযোগ তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
যৌথ বাহিনী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি দল ফুয়াদের মালিকানাধীন মৎস্য খামারে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তার কয়েকজন সহযোগী অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে অতিরিক্ত মাদকাসক্ত থাকায় ফুয়াদ সরকার পালাতে না পেরে ঘটনাস্থলেই গ্রেফতার হন।
পরবর্তীতে তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি এয়ারগান, ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ বেশ কিছু সন্দেহজনক আলামত উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তানভীর হাসান বলেন,
“যৌথ বাহিনীর অভিযানে ফুয়াদ সরকার নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিদ্যমান অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।