শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ছুরিকাঘাতের পর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার নৃশংস ঘটনায় দগ্ধ ঔষধ ব্যবসায়ী খোকন দাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। টানা তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তার মৃত্যু হয়।
নিহত খোকন দাস ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঔষধ ব্যবসার পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে খোকন দাস দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হামলাকারীদের চিনে ফেলায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
খোকন দাসের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর দগ্ধ ও আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার শরীরের ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত শনিবার সকালে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) ও শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
খোকন দাসের মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তানভীর হোসেন বলেন, খোকন দাসের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।